কোম্পানি কি | কোম্পানির গঠন প্রক্রিয়া

 

কোম্পানি কি

 কোম্পানি কি | কোম্পানির গঠন প্রক্রিয়া

বিশ্ব সমাজ ব্যবস্থায় আর্থ-সামাজিক দিকের বহুবিধ পরিবর্তন ও উন্নয়নের ছোঁয়া ব্যবসায় জগৎকে স্পর্শ করে। যার কারণে একমালিকানা ও অংশীদারি ব্যবসায়ের সীমাবদ্ধতাকে কাটিয়ে বৃহদায়তন ব্যবসায় হিসেবে  যৌথ  মূলধনী ব্যবসায়ের উৎপত্তি  হয়। যৌথ  মালিকানাধীন  যত রকমের  ব্যবসায় সংগঠন  আছে  তার মধ্যে  কোম্পানি সংগঠন  সবচেয়ে  বেশি  পরিচিত। বাংলাদেশের  কোম্পানি  সংগঠন গুলোকে প্রধানত দু ভাগে  ভাগ  করা  হয়েছে। ক. প্রাইভেট লিমিটেড  কোম্পানি ও খ. পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি।       


ক. প্রাইভেট লিমিটেড  কোম্পানিঃ

যে কোম্পানির সদস্য  সংখ্যা  সর্বনিম্ন ২ জন এবং সর্বোচ্চ ৫০ জনে সীমাবদ্ধ  এবং  যার শেয়ার অবাধ হস্তান্তরযোগ্য নয়, তাই প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি। বাংলাদেশে প্রচলিত ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আাইনে বলা হয়েছে, "প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলতে ৫০ সদস্যে সীমাবদ্ধ,  শেয়ারে ও ঋনপত্র ক্রয়ের জন্য জনগণের নিকট আমন্ত্রণ জানানো নিষিদ্ধ " অর্থাৎ কোম্পানি সদস্যগন শুধু নিজের মাঝে শেয়ার ক্রয় করতে পারে।

সদস্য সংখ্যা ও মুলধনের পরিমান সীমিত হওয়ার কারণে এ জাতীয় কোম্পানির আয়তন কম হয়ে থাকে। আইন অনুযায়ী এ কোম্পানি পরিচালকের সংখ্যা নূন্যতম ২ হতে হবে। বাংলাদেশে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি সংখ্যা দিন দিন ক্রমান্বয়ে বেড়ে যাচ্ছে।

খ. পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিঃ
যে কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ৭ ও সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা দ্বারা কোম্পানির স্মারক লিপিতে উল্লেখিত শেয়ার সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ এবং শেয়ারে ও ঋনপত্র জনগণের নিকট বিক্রি করা যায় এবং শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য তাই পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি প্রয়োজনে স্মারক লিপিতে সংশোধনী এনে শেয়ারের সংখ্যা বাড়িয়ে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে। আইন অনুযায়ী এ কোম্পানি কমপক্ষে ৩ জন পরিচালক থাকতে হবে।

কোম্পানির গঠন প্রক্রিয়া

  কোম্পানির গঠন প্রক্রিয়াঃ

বাংলাদেশে প্রচলিত ১৯৯৪ সালের কোম্পানি  আইন অনুসারে কতকগুলো  ধারাবাহিক  প্রক্রিয়া অনুসরণ  করে কোম্পানি  গঠন  করতে হয়। কোম্পানি গঠন প্রক্রিয়াটি সাধারণত চারটি  ধারাবাহিক  পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। সেগুলো  হলো -

১. উদ্যোগ গ্রহণ পর্যায়
এ পর্যায়ে কোম্পানি  গঠনে  আগ্রহী ব্যক্তিগণ নিজেরা  একত্রিত  হয়ে কোম্পানির সম্ভাব্য নাম , কোম্পানির ধরণ, মূলধনের পরিমাণ, মূলধন  সংগ্রহের উপায়,  কোম্পানির  ঠিকানা  ইত্যাদি  বিষয়ে সিদ্ধান্ত  গ্রহণ  করেন। উদ্যোক্তাগণ  ব্যবসায়  সংগঠনের সম্ভাব্য নাম স্থির করে নিবন্ধকের অফিস  থেকে সে নামে ছাড়পত্র  সংগ্রহ  করার চেষ্টা  করেন।

২. দলিলপত্র  প্রণয়ন পর্যায়
এ পর্যায়ে কোম্পানির পরিচালকগণ কোম্পানি  ব্যবসায়ের দুটি  গুরুত্বপূর্ণ  দলিল  প্রণয়ন করেন। একটি হলো স্মারকলিপি এবং অন্যটি হলো পরিমেল  নিয়মাবলি। স্মারকলিপিকে কোম্পানির মূল দলিল, সনদ বা সংবিধান বলা হয়। এতে কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ  বিষয় যেমন কোম্পানির নাম, নিবন্ধিত কার্যালয়ের ঠিকানা,উদ্দেশ্য, মূলধনের পরিমাণ, শেয়ারমালিকদের দায়দায়িত্ব, ন্যূনতম  চাঁদা  ইত্যাদি  বিষয় লিপিবদ্ধ করা হয়। অন্যদিকে পরিমেল  নিয়মাবলিতে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ পরিচালনা  সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সকল  বিষয়  লিপিবদ্ধ করা হয়।

৩. নিবন্ধনপত্র সংগ্রহ  পর্যায়
এ পর্যায়ে কোম্পানি নিবন্ধনের জন্য  নিবন্ধকের অফিস  থেকে  ফি দিয়ে আবেদনপত্র  সংগ্রহ  করতে হয়। আবেদনপত্র  যথাযথভাবে পূরণ করে নির্ধারিত ফি ও প্রয়োজনীয় দলিলপত্র  নিবন্ধকের নিকট  জমা দিতে  হয়। নিবন্ধক নির্ধারিত আবেদনপত্র, সকল  দলিলপত্র  ও  ফি  পাওয়ার  পর  যদি সকল  বিষয়ে  সন্তুষ্ট  হন  তবে নিবন্ধন  বইতে  কোম্পানির  নাম  তালিকাভুক্ত করেন  এবং নিবন্ধনপত্র  প্রদান করেন।  এ পত্র পাওয়ার  পর প্রাইভেট  লিমিটেড  কোম্পানি  কাজ  শুরু  করতে
পারে  তবে  পাবলিক  লিমিটেড  কোম্পানিকে কাজ  শুরু  করার  জন্য  নিবন্ধকের  নিকট থেকে কার্যারম্ভের  অনুমতিপত্র  সংগ্রহ  করতে  হয়।

৪. কার্যারম্ভ পর্যায়  
পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিকে কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র পাওয়ার জন্য  ন্যূনতম  চাঁদা  সংগ্রহের ঘোষণাপত্র এবং জনসাধারণের  নিকট  শেয়ার  বিক্রয়ের ঘোষণাপত্রসহ  কিছু গুরুত্বপূর্ণ  দলিলপত্রসহ আবেদন করতে হয় । সব  কাগজপত্র  ঠিক থাকলে এবং নিবন্ধক সন্তুষ্ট হলে। 

Post a Comment

0 Comments