ব্যবসা পরিকল্পনা কি | ব্যবসা পরিকল্পনার ধরনা

 
ব্যবসায় পরিকল্পনা

ব্যবসায় পরিকল্পনার ধারণা

ব্যবসায় পরিকল্পনা হলো ব্যবসায়ের ভবিষ্য কার্যক্রমের প্রতিচ্ছবি। এটি একটি লিখিত দলিল, যার মাধ্যমে ব্যবসায়ী লক্ষ প্রকৃতি ব্যবস্থাপনার ধারা অর্থায়নের উপায় বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সম্পূর্ণ চিত্র তুলে ধরা হয়ে থাকে। কোন ব্যবসায় কোন দিক দিয়ে এগিয়ে যাবেন কিভাবে ব্যবসায় সাফল্য অর্জন করবেন তার নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ব্যবসায় পরিকল্পনার মধ্যে পাওয়া যায়। উড়োজাহাজ যেমন রাডার চালকের পথ চলার নির্দেশনা দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে যেতে সাহায্য করে। তেমনি ব্যবসায় পরিকল্পনা কোন ব্যবসায়ীকে তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে। 

নতুন ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবছেন বা ব্যবসা সম্প্রসারণ করা দরকার। তাহলে এখন এই করে ফেলুন আপনার ব্যবসায় পরিকল্পনা। ব্যবসা পরিকল্পনা কে ভ্রমণকারী জন্য রোডের ম্যাপ এবং একজন দালাল নির্মাতা নীলনকশার সাথে তুলনা করা যায়। 

ব্যবসায় পরিকল্পনার গুরুত্ব

ব্যবসায় শুরু সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও এর অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের ব্যবসায় পরিকল্পনার গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যবসায় পরিকল্পনার প্রধান প্রধান গুরুত্ব নিচে আলোচনা করা হলো- 

ব্যবসা পরিচালনার দিকনির্দেশনা ব্যবসায় পরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জনের জন্য কখন কি করবেন কিভাবে এবং কত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করবেন। সে দিক নির্দেশনা হয়ে থাকে ফলে এটি ব্যবসায় উদ্যোগ। তার কাছে একটি দিক নির্দেশক আর দলিল হিসেবে কাজ করে। মূলধন সংগ্রহ ও বিনিয়োগ কোন ব্যবসা যখন অধিক মূলধনের প্রয়োজন দেখা দেয় এবং উদ্যোক্তার পক্ষে নিজস্ব তহবিল থেকে জোগাড় করা সম্ভব হয় না। তখন তাকে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করতে হয়। এক্ষেত্রে ঋণদাতা ও বিনিয়োগকারী মূলধন সরবরাহ করার পূর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা পরিকল্পনাটি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। 

সরকারি সুযোগ-সুবিধা সদ্ব্যবহার ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবহার ব্যবসাগুলো সরকারের নিকট থেকে অনেক সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে। ব্যবসা পরিকল্পনা ঐ সকল সুযোগ-সুবিধা পেতে সাহায্য করে এবং এই প্রকল্পটি করতে হয়। যে সরকারি সুযোগ-সুবিধা আপনি কিভাবে কোথায় ব্যবহার করবেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা ব্যবসায় প্রতিযোগিতা সম্পর্কে ধারণা করা আগামীদিনের ব্যবস্থার কোন দিক দিয়ে সম্প্রসারণ করতে হবে এবং কোন দিকটি অধিক লাভজনক হতে পারে এমন ভবিষ্য।

উপরোক্ত বিষয়গুলি ছাড়া ব্যবসার সাথে জড়িত অনান্য পক্ষ্য প্রয়োজন ব্যবসায় পরিকল্পনা অধ্যায়ন করে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া  যায়। কি পণ্য উদ্ভাবন করা উচিত ইত্যাদি সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যবসার পরিকল্পনা করতে হবে। 

ব্যবস্থাপনার ধারণা 

ব্যবস্থাপনা হচ্ছে অন্য লোকদের সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে কোনো কাজ করিয়ে নেওয়ার দক্ষতা ও কৌশল। আধুনিক ব্যবস্থাপনার জনক বলে পরিচিত হেনরি ফেওল -এর মতে 'ব্যবস্থাপনা হলো পূর্বানুমান ও পরিকল্পনা, সংগঠিতকরণ, নির্দেশনা, সমন্বয়সাধন ও নিয়ন্ত্রণের যোগফল।' ব্যবস্থাপনার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য নিম্নে তুলে ধরা হলো -

  • ব্যবস্থাপনা হলো কতগুলো কাজের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
  • ব্যবস্থাপনা পূর্ব নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের করতে হয়। 
  • ব্যবস্থাপনা একটি দল গত প্রক্রিয়া। 

ব্যবস্থাপনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। সময়ের পরিবর্তনের সাথে মিল রেখে ব্যবস্থাপনার কাজের ক্ষেত্রেও নতুন নতুন কৌশল গ্রহণ করতে হয়।


ব্যবস্থাপনার কার্যাবলী 

পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য সম্পাদিত কার্যবলিকে ব্যবস্থাপনা বলে। প্রতিষ্ঠানের সকল প্রকার মানবিক ও অন্যান্য উপাদানকে দক্ষতার সাথে পরিচালনার মাধ্যমে লক্ষ অর্জনের জন্য ব্যবস্থাপনার আওতায় অনেকগুলো কাজ করতে হয়। নিচে ব্যবস্থাপনার কার্যাবলী বিশ্লেষণ করা হলো -

ব্যবসা পরিকল্পনা কি - ব্যবসা পরিকল্পনার ধরনা

পরিকল্পনা প্রণয়নঃ

পরিকল্পনা হলো ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের দিক-নির্দেশনা। কোনো ব্যবসায় সংগঠনের পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য ভবিষ্যতে কি কাজ, ক, কিভাবে, কখন করবে তা নির্ধারণ করাই হলো পরিকল্পনা। ব্যবস্থাপনার প্রথম কাজ হচ্ছে পরিকল্পনা প্রণয়ন। 

সংগঠিতকরণঃ

ব্যবসায়ের প্রয়োজনীয় সকল মানবিক ও বস্তুগত উপকরণ এবং সম্পর্কে যথাযথভাবে ব্যবহার করার জন্য কর্মীদের মধ্যে দায়িত্বও ক্ষমতা বন্টন এবং আন্তঃসম্পর্ক তৈরীর কার্যাবলীকে সংগঠিতকরণ বলা হয়। 

কর্মীসংস্থানঃ

প্রতিষ্ঠানের অন্যতম উপাদান হচ্ছে তার কর্মী বাহিনী। কর্মী বাহিনীকে ব্যবসায়ের অন্যতম মানবিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কার্য সম্পাদনের জন্য উপযুক্ত কর্মী সংগ্রহ, নির্বাচন, নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ প্রদান, পদোন্নতি, বদলি, ছাঁটাই প্রভৃতি কাজ কর্মীসংস্থান এর অন্তর্ভুক্ত। 

নির্দেশনাদানঃ

পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কর্মীদের আদেশ- নির্দেশ প্রদান করাকে নির্দেশনা বলে। ব্যবস্থাপক কর্মীদের কোন কাজ কখন, কিভাবে সম্পন্ন করতে হবে তার নির্দেশনা প্রদান করে থাকেন। যথার্থ নির্দেশনা দিতে পারলে কর্মীরা সর্বাধিক দক্ষতা প্রদর্শন করতে হয়। নির্দেশনাদান নেতৃত্বদানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ন্য।

প্রেরণা দানঃ

প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরকে কাজের প্রতি আগ্রহী ও উৎসাহী করার প্রক্রিয়াকে প্রেরণা দান বলে। প্রেরণার ফলে কর্মীরা আগ্রহ দিয়ে দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ হয় এবং মানসম্মত কাজ সম্পাদনে সক্ষম হয়।

সমন্বয়সাধনঃ

সমন্বয় সাধন প্রক্রিয়ায় ব্যবসায় সংগঠনের কর্মী, বিভিন্ন বিভাগ ও উপ বিভাগের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করতে হয়। সমন্বয় সাধন এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সকলকে মিলে একটি দলে রুপান্তর করা হয়। যা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ সম্পাদনে সহায়তা করে।

নিয়ন্ত্রণঃ

পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ সম্পাদিত হচ্ছে কি না তা তদারক করা, ক্রটি-বিচুতি নির্ণয় করা এবং প্রয়োজনে সংশোধন মূলক ব্যবস্হা গ্রহন করার সার্বিক প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ বলে। নিয়ন্ত্রণ এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা খুব সহজে বাস্তবায়ন করা যায়। নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্হা সঠিক ও সুদৃঢ করতে ব্যবসায় সংগঠন তার অভ্যন্তরীন ও বাহ্যিক সকল অচলঅবস্থা ও বাধা মোকাবেলা করে উন্নতির দিকে ধাবিত হয়। মূলত নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সঠিক কাজ সঠিক পদ্ধতিতে সঠিক সময়ে সম্পূর্ণ হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করা হয়।

Post a Comment

0 Comments